Skip to main content

Posts

লেটুশদার হাতেখড়ি (পর্ব - তিন)

লেটুশদার হাতেখড়ি  তৃণাঞ্জয় ভট্টাচার্য  ( পর্ব - তিন )                                                                       আ মি একটা কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিই | আমি কিন্তু মোটেই তোপসে নই | তপেশ রঞ্জন মিত্র অনেক বেশি স্মার্ট | প্রদোষচন্দ্র মিত্রের স্যাটেলাইট | প্রত্যেক কাজে তার সহযোগী | আমি একেবারেই তা নই | আমি শুধু আমার ডায়েরিতে অভিজ্ঞতা লিখি | কেন জানিনা, লেটুশদা সঙ্গে থাকলে সেই অভিজ্ঞতা গুলোই একেকটা অদ্ভুত অদ্ভুত  গল্প হয়ে ওঠে | সেবার বাঁশদ্রোণী চার্চের পেতনি গুজবের সময়ও আমি ছিলাম নিতান্ত দর্শক | হোমস থেকে শুরু করে পি.সি. মিটার সবারই একাধিক সহযোগী আছে | শার্লকের ক্ষেত্রে যেমন মাইক্রফট এবং ওয়াটসন, তেমনই ফেলুদার কাছে সিধুজ্যাঠা এবং তোপসে | কিন্তু শশাঙ্ক সেন পুরো একা | সম্বল বলতে নিজের চোখ, বিচার করার অসম্ভব সূক্ষ ক্ষমতা আর প্রচন্ড শক্তিশালী মস্তিষ্ক | আর গাইড আর্থার কন্যান ড্যয়া...

লেটুশদার হাতেখড়ি (পর্ব - দুই)

লেটুশদার হাতেখড়ি তৃণাঞ্জয় ভট্টাচাৰ্য  ( পর্ব - দুই )  স্টে শন থেকে বেরিয়ে একটা গোল্ডফ্লেক ধরালো লেটুশদা। সঙ্গে খুঁজতে শুরু করল হলুদ-কালো অটোরিকশা | ম্যাজিক গাড়িগুলোও ভালো। লেটুশদা বলে, পাঁচটার কিছু আগে ভোরের অন্ধকারে পুরীর সমুদ্রকে দেখার অনুভূতিটাই নাকি আলাদা। আর কথাটা যে কতটা সত্যি তা বিবেকানন্দর মূর্তিটা বাঁহাতে রেখে ডানদিকে মেরিনড্রাইভ রোডে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারলাম। সত্যি সমুদ্রের এই রূপ আমি কখনোই দেখিনি।  বালির উপর ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার শব্দ এতদূর থেকেও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। দূরে জলের ওপরে ঘন কুয়াশা জমে রয়েছে। মানে সানরাইজ দেখার কোনো সুযোগ নেই । আমি এর আগে যখন পুরীতে এসেছিলাম তখন আমার বয়স পাঁচ। সূর্যোদয় দেখেছিলাম কিনা মনে নেই। আমরা যাবো ক্যামেলিয়া হোটেলে। স্বর্গদ্বার পেরিয়ে। লেটুশদা বলে, স্বর্গদ্বারের এইধারটায় নাকি বড্ড ভীড়। ওর কথায়, 'ভীড়ই যদি সহ্য করবো,তাহলে আর গড়িয়া স্টেশন ছেড়ে এলাম কেন?'  ওর পছন্দ লাইটহাউসের দিকটাই। অটোর ভাড়া মিটিয়ে আমরা তিনজন যখন হোটেলে ঢুকছি, তখন পুবদিকের আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে। cপ্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন ঃ https://t...

লেটুশদার হাতেখড়ি ( পর্ব - এক )

লেটুশদার হাতেখড়ি তৃণাঞ্জয় ভট্টাচাৰ্য ( পর্ব - এক ) 'প্র কৃতির কী অদ্ভুত নিয়ম না! জলের মধ্যে যদি ফসফরাস না থাকতো,তাহলে এই অন্ধকার রাত্রে ঢেউগুলো দেখতে পেতি কখনও ?' কথাগুলো বলল লেটুশদা। আমরা গতকাল সন্ধ্যা সাতটার সময় হাওড়া থেকে জগন্নাথ এক্সপ্রেসে পুরীতে এসেছি। আমরা বলতে আমি, লেটুশদা আর আমাদের পাড়ার গ্রসারি কাম স্টেশনারি দোকান "সঞ্চয়িতা"র মালিক কদমকৃষ্ণ বাবু মানে কেষ্টদা। ভদ্রলোক অকৃতদার। বাড়িতে বিধবা পিসি আর তার ছেলে গোবিন্দ থাকে। সেই প্রয়োজনমতো দোকানের কাজে সাহায্য করে। কদমকৃষ্ণবাবু বাইরে গেলে সঞ্চয়িতার দায়িত্ব তখন পুরোপুরি থাকে গোবিন্দর কাঁধে। আমি গোবিন্দকে চিনি। আমাদের বাড়িতে মিনারেল ওয়াটারের বোতল দিতে আসে। ছটফটে মিশুকে স্বভাবের দারুণ ছেলে। তাই কদমকৃষ্ণবাবু যে কোন জায়গায় যাওয়ার কথা শুনলে এককথায় রাজি হয়ে যেতে পারেন। দোকানের কথা ভাবতে হয়না। আমি জয়ন্ত চ্যাটার্জী। জিতু। এখন ক্লাস নাইন। যোধপুর পার্ক বয়েস হাই স্কুল। আমাদের বাড়ি নাকতলায়। নাকতলা শীতলা মন্দিরের পাশের গলিতে। "বসন্ত নিবাস", সতেরো বাই চার এক্সটেন্ডেড নাকতলা রোড। আমার ঠাকুরদাদা বসন্ত চ্যাট...

সোনার কেল্লার দেশে

২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস। বড়দিনের ছুটিতে বেরিয়ে পড়লাম রাজস্থান। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস এয়ারপোর্ট থেকে প্লেনে উঠে সোজা পৌঁছলাম জয়পুর। প্ল্যানটা এভাবে করা হয়েছিল যে জয়পুরে নামবো, কিন্তু জয়পুরে থাকবো না। পরেরদিনই বেরিয়ে যাবো বিকানের-এর পথে। জয়পুর হবে সেই ফেরার সময়।         অগত্যা প্ল্যানমাফিক সেই রাতটা আরটিডিসির হোটেলে কাটিয়ে বেরিয়ে পড়লাম পরেরদিন, বিকানের এর উদ্দেশ্যে। সেই বিকানের, যোধপুর থেকে যাতায়াতে যার দূরত্ব ৩০০ মাইল। কি করে জানলাম? ওই যে মিঃ বর্মন বললেন "সোনার কেল্লা"তে, 'এরপর তো ৩০০ মাইলের ধাক্কা !' মন্দার বোস : ' ৩০০ মাইল! বিকানের ৩০০ মাইল ? ' মি. বর্মন : ' না মানে যাতায়াত ৩০০ মাইল..।' মন্দার বোস: 'ওহ্, তাই বলুন'।           এই সেই বিকানের। তাহলে আসল কথাটা বলেই ফেলি। রাজস্থান বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্য বা বিধেয় যাই বলুন সব হল গিয়ে ওই সোনার কেল্লা। অনেক বছর ধরে প্ল্যান করে, একটু একটু করে পুঁজি জমিয়ে তবে আমাদের এই "রাজস্থানে রক্তপাত" থুড়ি রাজস্থানের রোমাঞ্চ অনুভব করতে আসা। আরে মশাই বাঙালী হয়ে সোনার কেল্লা দেখবো না...

‘যে গানের এক্সপায়ারি ডেট নেই…’

অব্যর্থ এই উক্তি সেদিন শিল্পী কল্যান সেন বরাটের মুখে শোনা গেল। উপলক্ষ্য ছিল বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক সলিল চৌধুরীর ৯৩ তম জন্মবার্ষিকী। নন্দন দুইতে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট শিল্পী ও অনুরাগীদের নিয়ে এক আন্তরিক স্মৃতিসন্ধ্যা। এরপরে নন্দন তিনে সলিল চৌধুরীর পরিচালিত একমাত্র ছবি “পিঞ্জরে কি পঞ্ছি” প্রদর্শিত হয়।  “রাণার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম”, “ও মোর ময়না গো”, “আহা ওই আঁকাবাঁকা যে পথ”, “ও ভাই রে ভাই”, “সুরের এই ঝর ঝর ঝর্ণা”, “হেই সামহালো”, “ওগো আর কিছু তো নাই”, “ধিতাং ধিতাং বোলে”, “যদি কিছু আমারে শুধাও”, “এই রোকো”, “পাগল হাওয়া”, আরো কত এমন সব কালজয়ী গান যার সত্যি কোন এক্সপায়ারী ডেট নেই, তার সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে এক সন্ধ্যার একটি অনুষ্ঠান কখনোই যথেষ্ট নয়। সুর সম্রাটের সুযোগ্যা কন্যা অন্তরা চৌধুরী বারবার বললেন এই কথা। তিনি উপস্থিত সকলের কাছে আবেদন রাখেন প্রতিবছর সলিল চৌধুরীর জন্মদিনে যদি তাঁকে নিয়ে উৎসবের আয়োজন করা যায় তাহলে অনেকেই উপকৃত হবেন, নতুনভাবে জানা যাবে স্রষ্টার বিভিন্ন ধরণের কাজকে, উঠে আসবে অনেক অজানা কথা। স্বল্প সময়ের অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ছবির বর্তমান উজ্জ্বল...

বাজীগর কহতে হ্যায়..'

তখন আর কতই বা বয়স আমার, ১৪-১৫ হবে। সিনেমা শব্দটা খুব একটা চেনা নয় তখন। বাড়ির কড়া শাসনের ঘেরাটোপে বন্ধুমহলে আমার তখন ভারী করুণ অবস্থা। দূরদর্শনে শনিবার বাংলা সিনেমা দেয় জানি। মা বাবা অনুমতি দিলে মাঝে মধ্যে সেটা দেখার সুযোগ জোটে। তবে হিন্দি সিনেমা তখন সম্পূর্ণ ভিনগ্রহের এক জিনিস। কোন নতুন হিন্দি সিনেমার গোটা একটা সিন দেখতে পাওয়া মানে হাতে চাঁদ পাবার সমান। সময়টা ছিল আমার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার। কেবল টিভি তখন ক্রমশ সিনেমার জগৎটাকে কাছে এনে দিচ্ছে। সেই সময় তাকে প্রথম দেখা। নাহ, love at first sight হয়নি। "দিওয়ানা" দেখা হয়নি। শুনেছি বেশ ভালো হয়েছে। নতুন একটা ছেলে নাকি ভাল এক্টিং করেছে। তারপর একদিন তাকে দেখলাম কেবল টিভিতে "রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান" ছবির একটা দৃশ্যে দেখে বেশ ভাল লেগে গেল। ছটফটে সহজ সরল ছেলেটা কেমন যেন চেনা চেনা। আরে একে তো আমি "সার্কাস" ধারাবাহিকে দেখেছি। কই তখন তো এত ভাল লাগেনি। এরপর একে একে এলো "বাজীগর" আর "ডর"। প্রতিশোধ এত ভয়ঙ্কর হতে পারে! ছোটবেলায় পাওয়া আঘাত মানুষকে এতদিন পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়ায়? আর সেই ভূমিকায় সেই ছেলেটা, যে ক...

ডায়েরীর পাতায়

28.09.2017                                                                                                                            01:45a.m অ্যাই বন্ধু, কেমন আছো? তোমার সাথে পাক্কা পঁচিশ ঘন্টা পর দেখা। জানো আজ একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো। আচ্ছা, তুমি সুপার হিরোতে বিশ্বাসী? আজ কিন্তু আমি সত্যিই সুপার হিরো দেখলাম। কি নিশ্চয়ই ভাবছো তিস্তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে? তা ভাবতেই পারো, ক্ষতি নেই।  তোমায় তো বলেই ছিলাম, যে মহাসপ্তমীর বিকেলটা মেসের বন্ধুদের সাথে কাটাবো, প‍্যাণ্ডেলে-প‍্যাণ্ডেলে ঘুরবো, হাবিজাবি খাবো, আর অনেক অনেক মজা করবো। বুঝতেই তো পারছো, বালুড়ঘাটের চৌহদ্দির বাইরে প্রথম পা রাখা, তাও আবার তিলোত্তমা কলকাতার দুর্গাপূজো দেখা। উফ্, উত্তেজনায় ঠিক করে ঘুমাতেই পারিন...