Skip to main content

বাজীগর কহতে হ্যায়..'

তখন আর কতই বা বয়স আমার, ১৪-১৫ হবে। সিনেমা শব্দটা খুব একটা চেনা নয় তখন। বাড়ির কড়া শাসনের ঘেরাটোপে বন্ধুমহলে আমার তখন ভারী করুণ অবস্থা। দূরদর্শনে শনিবার বাংলা সিনেমা দেয় জানি। মা বাবা অনুমতি দিলে মাঝে মধ্যে সেটা দেখার সুযোগ জোটে। তবে হিন্দি সিনেমা তখন সম্পূর্ণ ভিনগ্রহের এক জিনিস। কোন নতুন হিন্দি সিনেমার গোটা একটা সিন দেখতে পাওয়া মানে হাতে চাঁদ পাবার সমান। সময়টা ছিল আমার ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠার। কেবল টিভি তখন ক্রমশ সিনেমার জগৎটাকে কাছে এনে দিচ্ছে। সেই সময় তাকে প্রথম দেখা। নাহ, love at first sight হয়নি। "দিওয়ানা" দেখা হয়নি। শুনেছি বেশ ভালো হয়েছে। নতুন একটা ছেলে নাকি ভাল এক্টিং করেছে। তারপর একদিন তাকে দেখলাম কেবল টিভিতে "রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান" ছবির একটা দৃশ্যে দেখে বেশ ভাল লেগে গেল। ছটফটে সহজ সরল ছেলেটা কেমন যেন চেনা চেনা। আরে একে তো আমি "সার্কাস" ধারাবাহিকে দেখেছি। কই তখন তো এত ভাল লাগেনি। এরপর একে একে এলো "বাজীগর" আর "ডর"। প্রতিশোধ এত ভয়ঙ্কর হতে পারে! ছোটবেলায় পাওয়া আঘাত মানুষকে এতদিন পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়ায়? আর সেই ভূমিকায় সেই ছেলেটা, যে কিনা সদ্য নিজেকে বলিউড সাম্রাজ্যের নায়করূপে প্রতিষ্ঠিত করার দৌড়ে কয়েক মিটার মাত্র এগিয়েছে! সে কি করে এমন এক খলনায়কের চরিত্রে নিজেকে এভাবে মেলে ধরলো? অবাক হয়ে গেলাম কাগজে পড়ে। যথারীতি তখন অপেক্ষা কবে কেবল টিভিতে সিনেমাটা দেখা যাবে। নতুন সিনেমা এক সপ্তাহের মধ্যেই দিয়ে দিতো তখন। বসে গেলাম দেখতে। কিন্তু একি! এ তো সেই চঞ্চল, অনর্গল বকবক করে যাওয়া, পাগলামি করা পাশের বাড়ির ছেলেটা নয়। একে তো আমি আগে দেখিনি কখনো! কি তার চালচলন, কি তার চাহনি! সম্পূর্ণ অন্য এক অভিনেতাকে দেখলাম যেন। হ্যাঁ অভিনেতা। কারণ ইনি নায়ক নন। ইনি এমন একজন মানুষ যিনি খলনায়কের চরিত্রকেও সমান রঙ দিয়ে রঙিন করে দিলেন। আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের গোটা প্রজন্মটাকে জীবনের সেরা মন্ত্রটা শিখিয়ে গেলেন, 'কভি কভি জিতনে কে লিয়ে কুছ হারনা ভি পড়তা হ্যায়, অউর হারকর জিতনেওয়ালো কো বাজীগর কহতে হ্যায়।' এর চেয়ে বড় কথা আর কিই বা হতে পারে! আমরা সবাই তখন স্কুলের শেষের দিকে। "পরীক্ষা", "রেজাল্ট", "প্রতিযোগিতা" এসব শব্দের সঙ্গে তখন আরো একটা শব্দ প্রায়ই শুনতে হতো, "হেরে যাওয়া" বা "failure"। সেই হেরে যাওয়াকেও এমন অদ্ভুত আর চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দিয়ে প্রায় জিতের সমকক্ষ করে দিলেন যিনি তিনি তো নায়কই! 

তারপর আরো চমকে গেলাম "ডর" দেখে। প্রেম যে এত নৃশংস হতে পারে কে জানতো। কিন্তু ছবির নায়ক নায়িকাকে ছাপিয়ে গেল খলনায়ক চরিত্র রাহুল। কি করতে চাইছে ছেলেটা? কেরিয়ারের শুরুতেই একটার পর একটা ভয়ঙ্কর চরিত্রে নিজের সেরাটা দিয়ে দিচ্ছে। একে আর কেউ কখনো নায়করূপে দেখতে চাইবে? সন্দেহ ছিল। ভেঙে গেল এক বছরের মধ্যেই। "কভি হা কভি না" ছবিটা এসে এক ধাক্কায় সেই নিষ্ঠুর নৃশংস বদ্ধ পাগল মানুষটার ইমেজকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিল যেন। এ তো আবার আমাদের খুব চেনা একটা চরিত্র, যে পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে বাড়িতে জানাতে ভয় পায়। নানা ফন্দিফিকির খোঁজে কিভাবে তার স্বপ্নের নায়িকাকে খুশী করা যায়। তাকে কোনদিনও পাবে না জেনেও আপ্রাণ চেষ্টা করে যায় কিভাবে তার মুখে একটু হাসি ফোটানো যায়। খুব মিষ্টি লেগেছিল "সুনীল" নামের হেরে যাওয়া ফেল করা ভালো মনের ছেলেটাকে। 

কিন্তু শুধুই কি হেরে যাবার গল্প বলে যাবে ছেলেটা? সে কি কখনো তার বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে সদর্পে ভালবাসার জয়গান করবে না? ঠিক এক বছর পরে এর উত্তর পেলাম। একটা নতুন ছবি এলো, আর আগের সবকিছু যেন ঝড়ে উড়ে গেল এবার। সবাই বলতে লাগলো অসাধারণ ছবি। সবার মুখে শুধু সেই ছেলেটার নাম। তখন সদ্য মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছি। বন্ধুদের সঙ্গে সেই প্রথম বাড়ির অনুমতিতে হলে গেলাম একটা হিন্দি ছবি দেখতে। ছবির নাম "দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে"। চার বন্ধু মিলে আড়াই ঘণ্টা বুঁদ হয়ে রইলাম রাজ আর সিমরণের দুষ্টু মিষ্টি ভালবাসার রসায়নে। এই কি সেই ছেলেটা? যে ভালবাসলেই ভীতু হয়ে যেত, কিংবা হিংস্র! কই না তো, এ তো ভালবাসার রাজা। এমন কেউ সামনে এসে দাঁড়ালে কোন মেয়ের সাধ্যি তাকে অবহেলা করে? সিমরণের গাওয়া 'মেরে খোয়াবো মে যো আয়ে', এ যেন এক আর একমাত্র রাজকে লক্ষ্য করেই। এমন নাছোড় প্রেমিক যে কিনা প্রেমিকাকে পাবার জন্য সুদূর লন্ডন থেকে পাঞ্জাব চলে আসতে পারে! এমন রাজপুত্রের স্বপ্নই তো ছোট থেকে দেখে এসেছি আমি। রূপকথার রাজকুমার তো এমনই হয়। সেই দিন থেকে সেই রাজপুত্রের প্রেমে পড়লাম আমি যার নাম শাহরুখ খান। ওই বয়সে যা হয় আর কি, প্রেমে পড়লে বাড়িতে বলা নিষেধ, তেমনই এই নতুন রাজপুত্রের খবরও আমি কাউকে জানাইনি কিন্তু। তাই বলে কি প্রেম আটকে থাকে নাকি! অগত্যা শাহরুখের সব ছবি দেখতে হবে যেভাবে হোক। 

একে একে "ইয়েস বস", "পরদেশ", "দিল তো পাগল হ্যায়", "দিল সে", "কুছ কুছ হোতা হ্যায়", "কভি খুশি কভি গম" আমার বড় হবার প্রতি ধাপে আলতো হাতে অদৃশ্যভাবে যেন ছুঁয়ে যেতে লাগলো। ইয়েস বসের আধপাগল, উচ্চাকাঙ্খী অথচ প্রেমিকার প্রতি অসম্ভব যত্নবান ছেলেটা, পরদেশের সেই উপকারের তলায় পিষ্ট হতে থাকা অসহায় প্রেমিক, দিল তো পাগল হ্যায়ের একাধারে আত্মাভিমানী পরিচালক ও মনের কথা বলতে না পারা প্রেমিক, দিল সে-তে সৌন্দর্য্যের টানে সর্বনাশের দিকে ছুটে চলা এক সাধারণ রেডিও স্টেশনের কর্মী, কুছ কুছ হোতা হ্যায়তে বড় না হতে চাওয়া এক বাবা, কভি খুশি কভি গমে এক জেদি অথচ বাধ্য ছেলে যে বাবা মাকে ছেড়ে গিয়েও একদিনের জন্যেও তাদের ভুলতে পারে না, এমনই নায়ককে তো সব মেয়ে তার জীবনে কামনা করে। একে না ভালবেসে থাকা যায়! 

এরপর ২০০৩ এ এলো সেই মন কেড়ে নেওয়া ছবি, "কাল হো না হো"। শুরুতে শুনলাম "আনন্দ" ছবির রিমেক নাকি। দেখতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, এ একেবারে অন্য একটা ছবি। আনন্দের সঙ্গে এর কোন সম্পর্কই নেই। এ শাহরুখের নিজের ছবি, এই চরিত্র আর কাউকে ভেবে লেখা হয়নি। গোটা ছবিতে এত মানুষ, কিন্তু মনের মধ্যে ঢুকে ঘা দিয়ে যায় একমাত্র "আমন"। যার জন্য পুরো ছবিতে এত এত মজার বা আনন্দঘন মুহূর্ত দেখেও শেষে চোখের জল ধরে রাখা যায় না। এমনকি আজও, এখনও যতবার ছবিটা দেখতে বসি সেই একই ভাল লাগা, সেই একই কষ্ট, সেই একই মনখারাপ যেন ফিরে ফিরে আসে। এরপর তো কত ছবি, কতই না চরিত্র এলো গেল। মনের মধ্যে এক এক করে স্থায়ী জায়গা করে নিলো রামপ্রসাদ শর্মা, মোহন ভার্গভ, কিশনলাল আর তার মতো দেখতে এক ভূত, ডন, কবীর খান, ওম কাপুর, সুরিন্দর ওরফে রাজ, রিজওয়ান খান আরো কত কত চরিত্র। অভিনয় ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন বার বার, সমস্ত সমালোচনার ঝড়কে উড়িয়ে দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন বার বার। যে ছেলেটার হাসি দেখে নায়িকা পাগল হয়ে যায় সেই ছেলেটাই আবার এক ছাপোষা স্বামীরূপে স্ত্রীর মন পাবার নিরন্তর চেষ্টা করে যায়। নাসার চাকরি আর ডলারের হাতছানিও যাকে দেশপ্রেম থেকে টলাতে পারে না সেই আবার মেজর রাম শর্মা হয়ে কখনো মজাদার তো কখনো কঠোর এক সৈনিকের মতো দেশকে রক্ষা করেন। কবির খানের কঠিন দৃষ্টিকে নিষ্ঠুর মনে হলেও সেই লোকটাই দেশকে সন্মান এনে দেন আবার সেই ছেলেটাই কখনো এক অটিস্টিক মানুষের চরিত্রে একটি মেয়েকে ভালবেসে নিজেকে উজাড় করে দেন। 

কিন্তু এত এত চরিত্রে নিজেকে বারে বারে প্রমাণ করেও বিতর্ক তার পিছু ছাড়ে না। তাকে ভালবাসে কোটি কোটি মানুষ, দেশ বিদেশে প্রচুর ভক্ত তার। কিন্তু তবু তার haters -দের সংখ্যাও কিছু কম নয়। কারণ এই একজন অভিনেতাকেই বোধহয় যেমন ভালবাসাও যায় আবার ঘৃণা করাও যায়, যায়না শুধু উপেক্ষা করা। তাই আজও, কয়েক দশক বলিউডে সাম্রাজ্য করার পরেও তাকে সমালোচনা করে খবরের কাগজের পাতা ভরানো হয়। ফেসবুকে আলাদা গ্রুপ খুলতে হয়। কারণ ওই, তাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। তাই যখন বার বার শুনি 'আজকাল আর তেমন ছবি পাচ্ছে না রে', 'ওর কেরিয়ার শেষ হয়ে গেছে', 'একের পর এক বাজে ছবি করছে', তখন নিজের মনেই হেসে উঠি। কেননা আমি তো জানি, আমার "শাহ" আমাকে নিরাশ করবে না। ঠিক আবার ফিরে আসবে একটা "ফ্যান" কিংবা একটা "জিরো" নিয়ে। কয়েকটা খারাপ ছবি শাহরুখ যুগকে শেষ করে দিতে পারে না। ওর কাছেই যে শেখা 'হারকর জিতনেওয়ালো কো...'।

স্বাতী চ্যাটার্জী ভৌমিক


Comments

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...