Skip to main content

Posts

টস্ (Toss)

অাজকের দিনটা একটু অদ্ভূত। সকাল থেকেই মনটা কির'ম এলোমেলো হয়ে অাছে মোহিতের। কাল রাতে নীলিমার সাথে ওই ঝগড়াটা না কি অাজ সকালে চাকরির ইন্টারভিউটা- ঠিক কোনটা তাকে বিচলিত করছে সে নিজেও ঠিক বোঝে না। ঘড়ির কাঁটা যেন অাজ একটু জোরেই ছুটছে। দেখতে দেখতে ৯টা বেজে গেল। ১১টার মধ্যে পৌঁছতে হবে অফিসটায়, নীলিমার বাবা সুপারিশ করেছেন বলেই যাওয়া। যা চাকরির বাজার, নয়তো মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কীবোর্ড ঠোকার কোন ইচ্ছেই মোহিতের ছিল না। ফোনে একটা ক্যাব বুক করবে ভাবে। তারপর কি মনে করে একটা ২০১ বাসে চড়ে যায় মোহিত, হুট করে অতগুলো টাকা খরচা করার মত মানসিকতা বা অার্থিক অবস্থা নেই ওর এখনও, সেই নিয়েই কাল রাতে নীলিমার সাথে শুধুমুধু ঝগড়াটা হল। এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই কখন সেক্টর ৫ এসে গেছে বোঝেইনি সে। নামার সময় এক ভিখারি হাত পেতেছিল, অন্যমনস্কভাবেই সে একটা দু' টাকার কয়েন দিল তাকে। লোকটা কয়েনটা ফিরিয়ে দিয়ে মোহিতকে বলল, "এ যে জালি টাকা গো!" মোহিত দেখল সত্যি তো, দুদিকেই হেড! স্ট্রেঞ্জ! কি যে হচ্ছে কাল থেকে! রাস্তা পার করে অফিসটায় ঢুকতেই এসির ঠান্ডা বাতাসে শীত অনুভব করে মোহিত। ঠিক...

দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ ম্যাজারিন স্টোন

শুরুর কথা: স্যর কোনান ডয়েলের শার্লক হোমস সিরিজের ৫৬টি ছোটগল্পের মধ্যে এই গল্পটির কিছু বিশেষত্ব আছে। সাধারণতঃ শার্লক কাহিনী আমরা ডাক্তার ওয়াটসনের মুখেই শুনে এসেছি। কিছু ক্ষেত্রে শার্লক হোমস নিজেও কাহিনীর বিবরণী দিয়েছেন, কিন্তু এই কাহিনীটি সবার থেকে আলাদা। কারণ এখানে একজন তৃতীয় কোনো মানুষ গোটা কাহিনীটি বলছেন। প্রকৃতপক্ষে এই কাহিনীটি মঞ্চে অভিনয়ে করার জন্য স্যর কোনান ডয়েল লিখেছিলেন। পরবর্তীকালে এটি ছোটগল্প হিসেবে স্থান পায়। সে জন্যই এরকম কথনশৈলী।] ২২১, বি বেকার স্ট্রীটের দোতলার সেই অপরিচ্ছন্ন ঘরে ফিরে আসতে পেরে ডাক্তার ওয়াটসনের ভালো লাগছিল। এই ঘর থেকেই বহু স্মরনীয় অভিযানের সূচনা হয়েছিল। তিনি বারবার দেখছিলেন ঘরের দেওয়ালে টাঙ্গানো বৈজ্ঞানিক চার্ট, অ্যাসিডে পোড়া টেবিল, ঘরের এককোণে পড়ে থাকা স্ট্রাডিভোরাস বেহালার বাক্স, কয়লা রাখার পাত্র, যেখানে চিরাচরিতভাবে আছে পাইপ ও তামাক। অবশেষে তাঁর চোখ গেল হাস্যরত বিলির দিকে। বিলি যেকোনো কাজে খুবই পারদর্শী। বলাই বাহুল্য, স্বভাবগম্ভীর শার্লক হোমসের জীবনে ডাক্তার ওয়াটসনের অভাব অনেকটাই পূরণ করেছিল এই বিলিই। "সবকিছুই তো অপরিবর্তিত...

গল্প :- "সেদিন"

ঘড়িতে তখন রাত সোয়া নটা,ইতিমধ্যে দুবার বেল পড়ে গেছে.... - মা,দুবার কিন্তু বেল পড়ে গেছে খেয়ে নাও এবার,ওরকম করো না আর....আমি বললাম... - না খাবো না.. দরজাটা খুলে মুখ বাড়িয়ে আয়া দিদি বললো,লাস্ট বেল কিন্তু এখুনি পড়বে তাড়াতাড়ি করুন... - আরে দেখুন না একটুও খায় নি এখনো... - কেনো আজ আবার কি হলো?? - ওই এক কথা বিয়ে কর,বউমার এর মুখ দেখবো..... - খারাপ তো কিছু বলেনি,করে নিন না বিয়েটা... - আপনিও..... - আচ্ছা বিয়ে নয় হবে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিন আপনি সুস্থ না থাকলে বিয়ে দেখবেন কি করে.....মাকে বলে নার্স চলে গেল। - খেয়ে নাও আর একটু.....ওষুধ গুলো আছে না শেষ... - জানিনা... থার্ড বেলটাও পড়ে গেল....আবার আয়া দিদি ঢুকলো.... - ছাড়ুন এবার বাকি আমি খাইয়ে দেব... - খাবারটা সবটা খাবে আর ওষুধ গুলো খেয়ে নেবে,আমি আসলাম... বলে কাঁধে ব্যাগটা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছি পিছন দিয়ে মায়ের গলা পেলাম... - সাবধানে যাস,গিয়ে আয়া দিদির ফোনে একটা ফোন করে জানাস.... - আচ্ছা আর তুমিও সাবধানে থেকো.... বেরিয়ে দেখি লিফট বন্ধ,অগত্যা সিঁড়ি দিয়ে নামলাম,পার্কিং থেকে গাড়ি বের করার সময় ভাবলাম একবার স্নেহা কে ফোন করি,আবার ...
আমাদের সকলের, যাদের নিজেদের বাড়ি আছে, তাদের সকলের একটা খুব প্রিয় জায়গা হলো বাড়ির ছাদ। হ্যাঁ। হতে পারে নেড়া , হতে পারে ঘেরা, হতে পারে বাহারি রেলিং দেওয়া অথবা ইঁটের পাঁজা বের করা। তবু সেটা একটা খুব স্পেশাল জায়গা। ছাদ যখন আছে, সেই ছাদের কিছু একান্ত নিজস্ব গোপন গল্প ও রয়েছে নিশ্চই। যেগুলো বাড়ির আনাচ-কানাচ ঠিক ততটা ভালো করে জানেনা। কি সেই গল্প? শুরু করা যাক ছোটবেলা থেকে, প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো কোথায় শেখা? প্রথম আচার-চুরি? প্রথম পুতুলখেলা-খেলনাবাটির সংসার? প্রথম বড়ি দেওয়া? প্রথম আমসত্ত্ব খাওয়া? সঅঅঅঅব ছাদে। সেই যে সেবার, বাবার হাত ধরে ভো-কাট্টা করে দিয়েছিলেন আর ৫টা বাড়ি পরে থাকা কাল্টু দের? মনে পড়ে? সে কি চেঁচামেচি বলুন? আর মাঞ্জা দেওয়া? কাঁচের গুঁড়োয় হাত কেটে যাওয়া? কি মার টাই না খেতেন মায়ের কাছে। এসবের সময় কিন্তু ছাদ চুপ করে আপনার দাপাদাপি সহ্য করতো। কিছুটি বলতো না। তারপর ধরুন শীতকালে, ওহঃ সে এক দিন ছিল মশাই বলুন? সারি সারি বড়ি দিয়ে আপনার ঠাম্মা বা দিদা বসে থাকতো লাঠি হাতে, "কাক"-তাড়ুয়া হয়ে, আপনি তখন কম ভয় পেতেন সেই লাঠিকে? তবু কিন্তু এদিক ওদিক সময় পেলেই আপনি চাকুম...

নবরূপে নরসিংহ

অমৃতা চক্রবর্তী। বিশেষ কারণে লেখাটি type করা গেলো না. এর জন্য আমরা দুঃখিত।

চিঠি

আজ হটাৎ দুপুরে বাড়িতে    মনে পড়লে সেই   দুপু রে  কলিং বেলটা আর বাজছে না।    মনে করতে মনে পরে গেলো আজ  কাল সে আর আসে  না।    যদি আপনারা একটু মনে করার চেষ্টা করেন তাহলে খুব সহজে মনে পরে যাবে এক জনের  কথা যে এই গরমে  ক্লান্ত হয়ে বাড়ি আসতো  আর আমাদের হাতে তুলে দিতো আমাদের নিজের লোকের ভালোবাসার চিঠি।               আমি আমাদের খুব প্রিয় পোস্টম্যান কাকু বা জেঠু কথা বলছি। আমি জানি এই    কথা মাত্র     আপনাদের মনে সেই হারিয়ে যায় মুখ গুলো ভেসে আসবেই। সত্যি খুব অবাক লাগে কত     তাড়াতাড়ি সময় পাল্টিয়ে যায়।    আজ তাদের মুখ গুলো খুব মনে পরে সেই হাসি ভরা মুখ সেই যত্ন করে জিজ্ঞাসা করা কেমন আছো স্কুল কেমন চলছে।             আমাদের থেকে সব থেকে বেশি    করে মনে পরে মায়ের কথা।    মায়ের ভাই   মামা  থাকতো অসমে।  তার চিঠি আসলে মায়ের মুখটা যেন অন্য-রখম হয়ে যেত। ...