Skip to main content

চিঠি


আজ হটাৎ দুপুরে বাড়িতে  মনে পড়লে সেই 
 দুপুরে কলিং বেলটা আর বাজছে না।  মনে করতে মনে পরে গেলো আজ  কাল সে আর আসে  না।  যদি আপনারা একটু মনে করার চেষ্টা করেন তাহলে খুব সহজে মনে পরে যাবে এক জনের  কথা যে এই গরমে  ক্লান্ত হয়ে বাড়ি আসতো  আর আমাদের হাতে তুলে দিতো আমাদের নিজের লোকের ভালোবাসার চিঠি।

              আমি আমাদের খুব প্রিয় পোস্টম্যান কাকু বা জেঠু কথা বলছি। আমি জানি এই  কথা মাত্র   আপনাদের মনে সেই হারিয়ে যায় মুখ গুলো ভেসে আসবেই। সত্যি খুব অবাক লাগে কত   তাড়াতাড়ি সময় পাল্টিয়ে যায়।  আজ তাদের মুখ গুলো খুব মনে পরে সেই হাসি ভরা মুখ সেই যত্ন করে জিজ্ঞাসা করা কেমন আছো স্কুল কেমন চলছে। 
          আমাদের থেকে সব থেকে বেশি  করে মনে পরে মায়ের কথা।  মায়ের ভাই  মামা থাকতো অসমে।  তার চিঠি আসলে মায়ের মুখটা যেন অন্য-রখম হয়ে যেত।  একটা উৎকণ্ঠা  সব সময় কাজ করতে যে কেমন আছে সে সব ঠিক আছে তো ? বুঝতে পারতাম এক প্রচন্ড আবেগ মার মধ্যে কাজ করছে।  ভাই এর চিঠি পেয়ে  মা যেন তাকে দেখতে পেতেন। যেন চিঠি মধ্যে সে ভেসে উঠে কথা গুলো বলছে।
             এই অনুভব  আমারও  হয়েছে মনে পরে ছোট বেলায় এই সাউথ ম্যাগাজিনে পেন ফ্রেন্ড বলে একটা বই বার হতো সেই সময় সেটা খুব জনপ্রিয় হয়ে আমাদের মনে।  স্কুল বাদ দিয়েও যে বন্ধু করা যায় সেই সময় আমাদের কাছে খুব মজার ছিল। আমিও খবর টা  পেয়ে একটা চিঠি পাঠালাম সে অফিস।  ঠিক তার পরের মাসে আমার  ঠিকানা সহ সেই ম্যাগাজিনে।
            বাড়ি তে চিঠির বন্যা শুরু হয়।  বাড়ির লোক ও  বলতে শুরু করে তোর চিঠি আসছে কি ব্যাপার।  আমার সেই চিঠি গুলোর মধ্যে  আমার এখনো মনে আছে একটা ছেলে ছিল যার নাম ছিল সতীশ ওর সঙ্গে আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়। ছেলেটা সঙ্গে আমার মতের খুব মিল ছিল একটা  দুটো চিঠির পড় আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলাম ওর সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে কথা বলা ওকে অনেক বার কলকাতার আসার জন্য বলেছি।  কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠে নি।  সে চিঠি গুলো র মধ্যে যেন ওকে দেখতে পেতাম ওকে বুঝতে পারতাম কিন্তু কোনো দিন ওকে সামনে  দেখি নি বা হয়তো দেখার কথা মাথায় আসেনি।
                  এই ভাবে বেশ কয়েক  বছর চলে আমাদের মনে চিঠি আদান প্রদান।  কিন্তু সময় এর সঙ্গে  সঙ্গে বেড়ে চলে মানুষের ব্যস্ততা ।  হঠাৎ যেন কোথায় হারিয়ে গেলো সে।  জীবনের অনেক নতুন বন্ধু জোটে। কিন্তু আজ যখন মনে পরে ওর কথা মন টা  খুব খারাপ হয়। 
                  আজ আমাদের কাছে মোবাইল whats app  আছে ফেসবুক আছে কত কিছু কিন্তু চিঠির মধ্যে  যে ভালো বাসা বেজে  উঠতো  তা আজ অন্য কথা থেকে পায়ও  যায় না।  আধুনিক জীবন আমাদের মুসকিল অনেক সহজ করে দিয়েছে কিন্তু ভালোবাসার টান  আমাদের মধ্যে অনেক কমে গেছে।  তাই আজ সেই ছোটবেলার ভালোবাসার লোক গুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
 শ্রয়ন দে 

Comments

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...