আমার ছোটবেলার বন্ধু ছিল বুবুন, রোজ বিকেলে আমরা পাড়ার এক মোড় থেকে আরেক মোড় অবধি 'রেস্' করতাম, তার পর যখন আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয়ে যেত তখন আমরা পাড়ার সব বাড়িতে কলিং বেল বাজিয়ে পালাতাম।
পরের দিনের জন্য আমরা প্রতিজ্ঞা করতাম রেস্ করে বেল টিপে নিয়ে পুরো পাড়াকে জ্বালানো।
তখন " স্ট্যাটাস কুও " নিয়ে কোনো ধারণাই ছিল না , ছিল খালি পায়ে মন খুলে দৌড় দেওয়া পাড়ার এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত, মা বাবার কাছে মার্ খাওয়া পড়াশোনা না করার জন্য।
কিন্তু পড়া করে নিজেকে "লিবারেট" করতে পারিনি , পেরেছি ''ফর্মাল" হতে , পেরেছি নিজেদের মধ্যে 'দূরত্ব' সৃষ্টি করতে, বড় বড় ভাষায় কথা বলে দেখোনদারিত্ব জাহির করতে।
প্রশ্ন হলো সত্যি করে কি শিক্ষার মর্য্যাদা রাখতে পেরেছি ? আমার ভাবি 'স্যালারি প্যাকেজ ' ঠিক করে দেবে যে শিক্ষার মর্য্যাদা রাখতে পেরেছি কি না ? ব্যাঙ্ক এর ক্রেডিট কার্ড ঠিক করে দেবে ? একটা বড় ঘরের সুন্দরী বৌ এর জন্য সারা জীবন পড়াশোনা করলাম ? নাকি উচিত ছিল বন্ধু হয়ে একে অপর কে দরকারের সময় বা সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়ানো ? ছেলে বেলা কে ধরে রাখা আর মানুষের মতো বাঁচা , যেটা অল্প তাতেই সুখী থাকা , যাতে অন্য কারোর ভাগ না মারা হয়।
প্রশ্নটা রয়েই গেলো। মর্য্যাদা টা কি রাখলাম ?
অনির্বান দত্ত
এ বড় সরল কিন্তু গভীর প্রশ্ন। হয়তো পড়াশোনা গুলো আক্ষরিক অর্থে ভুলে গেছি, কিন্তু জীবনে চলতে চলতে ক্রমশ সবাই কে আপন করে নিতে শিখেছি। ক্ষণিক বিরহের পর, যখন বিরহ ব্যাথা অনুভূতি আসে, তখন অধিকতর উদ্যমে মানুষ আপন করতে শেখে। এই লেখার মাধ্যমে তো তাই প্রকাশ পাচ্ছে।
ReplyDelete