Skip to main content

প্রশ্ন গুলো সহজ আর উত্তরতো ......

আমার ছোটবেলার বন্ধু ছিল বুবুন, রোজ বিকেলে  আমরা পাড়ার এক মোড় থেকে আরেক মোড়  অবধি 'রেস্' করতাম, তার পর যখন আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয়ে যেত তখন আমরা পাড়ার সব বাড়িতে কলিং বেল বাজিয়ে পালাতাম।  
পরের দিনের জন্য আমরা প্রতিজ্ঞা করতাম  রেস্ করে বেল টিপে নিয়ে পুরো পাড়াকে জ্বালানো।  
তখন " স্ট্যাটাস কুও " নিয়ে কোনো ধারণাই ছিল না , ছিল খালি পায়ে মন খুলে দৌড় দেওয়া পাড়ার এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত, মা বাবার কাছে মার্  খাওয়া পড়াশোনা না করার জন্য।  
 কিন্তু পড়া করে নিজেকে "লিবারেট" করতে পারিনি , পেরেছি ''ফর্মাল" হতে , পেরেছি নিজেদের মধ্যে 'দূরত্ব' সৃষ্টি  করতে, বড় বড় ভাষায় কথা বলে দেখোনদারিত্ব জাহির করতে। 
  
প্রশ্ন হলো সত্যি করে কি শিক্ষার মর্য্যাদা রাখতে পেরেছি ?     আমার ভাবি 'স্যালারি প্যাকেজ ' ঠিক করে দেবে যে শিক্ষার মর্য্যাদা রাখতে পেরেছি কি না ? ব্যাঙ্ক এর ক্রেডিট কার্ড ঠিক করে দেবে ? একটা বড় ঘরের সুন্দরী বৌ এর জন্য সারা জীবন পড়াশোনা করলাম ? নাকি উচিত ছিল বন্ধু হয়ে একে অপর কে দরকারের সময় বা সুখ দুঃখে পাশে দাঁড়ানো ? ছেলে বেলা কে ধরে রাখা আর মানুষের মতো বাঁচা , যেটা অল্প তাতেই সুখী  থাকা , যাতে অন্য কারোর ভাগ না মারা হয়।  
  প্রশ্নটা রয়েই গেলো।  মর্য্যাদা টা কি রাখলাম ?  
                   
                                                                                       অনির্বান দত্ত 

Comments

  1. এ বড় সরল কিন্তু গভীর প্রশ্ন। হয়তো পড়াশোনা গুলো আক্ষরিক অর্থে ভুলে গেছি, কিন্তু জীবনে চলতে চলতে ক্রমশ সবাই কে আপন করে নিতে শিখেছি। ক্ষণিক বিরহের পর, যখন বিরহ ব্যাথা অনুভূতি আসে, তখন অধিকতর উদ্যমে মানুষ আপন করতে শেখে। এই লেখার মাধ্যমে তো তাই প্রকাশ পাচ্ছে।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...