Skip to main content

লেটুশদার হাতেখড়ি (পর্ব - ছয়)

         

লেটুশদার হাতেখড়ি
তৃণাঞ্জয় ভট্টাচার্য
(পর্ব - ছয়)


অস্বাভাবিক ঘটনা আমার জীবনে খুব বেশি ঘটেনি বলে কিনা জানিনা, পূবালিদেবীর পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা শুনে আমার চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হল। কদমকৃষ্ণবাবু তো মুখটাকে হা করে রইলেন। আমাদের অবস্থা যে খুব একটা অস্বাভাবিক নয়, সেটা বুঝতে পারলাম যখন দেখলাম, লেটুশদাও ভীষণভাবে চমকে গিয়ে 'বলেন কী' বলে উঠেছে।


এতক্ষণ অবধি আমরা জানতাম পূবালী সোম মারা গেছেন ছ'টার আশেপাশে। যখন নিমাই চা নিয়ে তাদের ডাকতে যায়। কারণ, সে সেইসময় চিৎকার শুনেছে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, খুনটা হয়েছে আরও দুঘন্টা আগে। তা কী করে হয় ?  তখনও তো মেঘরাজবাবু আর মিস্টার এবং মিসেস বসু হোটেলেই ছিলেন। তাছাড়া, নিমাই নায়েকই বা দুঘন্টা বাদে চিৎকার শুনবে কেমন করে ? তার মানে কেউ কি মিথ্যে বলছে ? 




'নিমাই ব্যাটা মিথ্যে বলছে না তো ?' অটোতে ফিরতে ফিরতে প্রশ্ন করলেন কদমকৃষ্ণবাবু।


'মনে তো হয়না।' বলল লেটুশদা। যদিও আমি দেখতে পাচ্ছি ও একদম চুপ করে গেছে।


আজ ব্রেকফাস্টে আলুর পরোটা খাওয়ার কথা। আমরা হোটেলে ঢোকার দশ মিনিটের মধ্যে চলে এল ব্রেকফাস্ট আর চা। আমাদের ক্যামেলিয়া হোটেলের রিসেপশনিস্ট,নাম ক্যান্ডি। বেশ হাসিখুশি আর স্মার্ট। তবে সে বাঙালি না অবাঙালি, বাড়ি কোথায়, এইসব বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই। আমি তো তিনদিন তিনবার করে দেখেও কিছুই বুঝতে পারিনি। লেটুশদার অবশ্য চোখই আলাদা। ও সরাসরি বলে দিল লোকটা বাঙালি। গলায় নাকি কালীঘাটের কালীর লকেট আছে আর হাতে ট্যাটু করে বাংলায় "মা" লেখা রয়েছে। কলকাতায় বাড়ি যদি নাও হয়, নিয়মিত কলকাতায় যাতায়াত রয়েছে। কারণ গায়ের কালো কোটটায় শ্রীরাম আর্কেডের ইমতিয়াজ টেলার্সের লেবেলটা এখনও আটকানো রয়েছে। আশ্চর্য দৃষ্টি বটে ! এবার ও নিজেই আমার হাতে একটা নোটপ্যাড আর কলম ধরিয়ে দিয়ে বলল,


'এখনও পর্যন্ত যাদের সঙ্গে নতুন পরিচয় হল,মনে করে করে সেগুলো পরপর লেখ দেখি প্রত্যেকের কি কি ক্যারেক্টারিস্টিক তোর নজরে পড়ল।'


বুঝলাম, আমি সহকারী না হতে চাইলেও শশাঙ্ক সেন আমাকে স্যাটেলাইট বানিয়েই ছাড়বে। আমি যা লিখলাম, সেটা এখানেও পরপর তুলে দিচ্ছি।


1.পূবালী সোম :- মৃত। বাড়ি -হাওড়া মন্দিরতলা। শ্বশুরবাড়ি হাজরা, রানী শঙ্করী লেন। গৃহবধূ(?), মদ খাননা(?)।


2. মেঘরাজ সোম :- পূবালিদেবীর স্বামী। পৈতৃক ব্যবসা। মদ্যপান করেন। সিগারেট খান না। কথা বললে অনেক কথা বলেন।


3. উদ্দালক বসু :- ব্যাঙ্গালোরে কী করেন ? মদ্যপান করেন। সিগারেট খান, ক্লাসিক। পূবালীদেবীর সঙ্গে কলেজে পড়তেন। এসি সহ্য হয়না।


4. মাধুরী বসু :- উদ্দালকবাবুর স্ত্রী। ওনার ব্যাচমেট। মদ্যপান করেন। আর কিছু জানিনা।


5. নিমাই নায়েক :- বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর। পুলীন পুরী হোটেলের স্টাফ। বাড়িতে মাছের চাষ।




সব ঠিকঠাকই ছিল, কিন্তু ফুল মার্কস পাওয়া হল না। লেটুশদা বলল, শুধু পূর্ব মেদিনীপুর লিখলে হবে না। কাঁথি জায়গাটার নামও লেখা উচিত ছিল। সে যাই হোক আমি তো আর গোয়েন্দার সহকারী নই।


'আজ সন্ধ্যেবেলা আমি বেরোবো। আমি ফেরার আগে তোরা হোটেল থেকে কোথাও বেরোবি না।' বলল লেটুশদা | 


স্নান সেরে চিংড়ি মাছের মালাইকারি আর পিজ পোলাও দিয়ে লাঞ্চ করে আমরা ঘরে চলে এলাম। হাতে গোল্ডফ্লেক নিয়ে জানলার থেকে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে লেটুশদা। এখন ও পুরোপুরি ভাবনায় ডুবে গেছে। কখন যে চোখ লেগে গেছে বুঝতে পারিনি। যখন চোখ খুলল,দেখলাম পাশে লেটুশদা নেই। কদমকৃষ্ণবাবু নাক ডাকিয়ে চলেছেন। বাইরে বেড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। লেটুশদার বারণ বলে কথা। দুজন মিলে ব্যালকনিতে বসে সমুদ্র দেখে আর কটকটি-বিস্কুটের ওপর জুলুম চালিয়ে সন্ধ্যেটা কাটিয়ে দিলাম। রাত আটটা। সি-বিচের ভীড় ফিকে হয়ে আসছে। হঠাৎ একটা রিক্সা ঢুকলো, ক্যামেলিয়ার মেইন গেট দিয়ে। আমাদের বিল্ডিংটার সামনে এসে সেটা দাঁড়ালো। একটা লোক সামান্য টলতে টলতে নামলো রিক্সা থেকে। বুকের ভিতর দুরুদুরু শুরু হয়ে গেছে। আসেপাশে আর কোনও আওয়াজ নেই, শুধু একটানা সমুদ্রের গর্জন ছাড়া। অপরাধীরা জেনে গেছে আমরা তাদের শত্রু। যেকোনো সময় আমাদের ওপর আক্রমণ নেমে আসতে পারে। এ যদি অপরাধীদের কেউ হয়, তাহলে কী হবে ? লেটুশদা সঙ্গে থাকলে ব্যাপারটা নিয়ে হয়তো এতটা ভাবতাম না। কিন্তু এখন ও সঙ্গে নেই। কখন ফিরবে তাও আমরা কেউ জানিনা। লোকটার মাথার পুরোটাই সাদা ব্যান্ডেজে  ঢাকা। এখন রিক্সার ভাড়া মেটাচ্ছে। এবার খুব ভালোভাবে দেখতে পেলাম লোকটাকে। আর দেখেই আঁতকে উঠলাম দুজনে। লেটুশদা ! এক দৌড়ে পৌঁছে গেলাম নীচে। যদিও ক্যান্ডি আমাদের আগেই পৌঁছে গেছে।


'কী করে হল লেটুশদা?' আমার গলা রীতিমতো কাঁপছে।


'জগন্নাথের অভিশাপ। চিংড়ি মাছ খেয়ে সন্ধ্যারতি দেখতে গেলে যা হয়। নাহ ! কাল ভোরে সানরাইজ দেখতে হচ্ছে।'




'ধন্যি ডাক্তার এস. মোহান্তি ! ব্যান্ডেজটা দারুন করেছেন।'


বলল লেটুশদা।


পরেরদিন ভোর সাড়ে চারটের সময় আমরা পৌঁছে গেলাম বিচে। কে বলবে এখনও পাঁচটা বাজেনি। সবকটা চায়ের দোকানতো খুলে গেছেই, মানুষও জড়ো হয়ে গেছে দলে দলে। লেটুশদার চোখ পূর্বদিকে, সমুদ্রের ওপরে। এরপর জলের রঙ বদলের পালা। কালো থেকে প্রথমে গাঢ় বেগুনি, তারপর গাঢ় মেরুন, তারপর গাঢ় রঙটা ফিকে হতে হতে লাল। সবশেষে যখন কমলা রঙটা আসে, তখন সমুদ্রের দিগন্তের ওপর এসে গেছেন সূর্যদেব। সূর্য ওঠার পরপরই একটা পরিচিত গলা শুনে আমরা সবাই চমকে উঠলাম। আরে এটাতো আমাদের পাড়ার বুল্টির গলা। সুকুমার রায়ের "গোঁফচুরি"। এই কবিতাটাই তো বলল সেদিন উদয়ন সংঘের অনুষ্ঠানে। কিন্তু সে এখানে কোথায় ? না, সে এখানে আসেনি। এসেছে কদমকৃষ্ণবাবুর ফোন। বাচ্চাটার আবৃত্তি রেকর্ড করেছিলেন ভদ্রলোক। আর সেটাকেই এখন ফোনের রিংটোন বানিয়ে দিয়েছেন। ফলে ফোন এলেই বেজে ওঠে বুল্টির গলা। হঠাৎ, লেটুশদা বলে উঠল, 


'আপনি আমায় বাঁচালেন কেষ্টদা। এই ব্যাপারটা মাথায় আসতে যে এতো লেট কী করে হল !'


শুনে এক আঙুল জিভ বার করে কেষ্টদা বললেন, 


'কী যে বলেন, লেটুশদার লেট !'




পুলীন পুরীর দোতলায় একশ সাতনম্বর ঘরে জড়ো হয়েছেন সবাই। আমি, কদমকৃষ্ণবাবু, ম্যানেজার সেনাপতি মশাই, নিমাই নায়েক, মেঘরাজ সোম, উদ্দ্যালোক ও মাধুরী বসু, ইন্সপেক্টর মিশ্র এবং অবশ্যই লেটুশদা। দরজার সামনে দুজন কনস্টেবল। সাধারণ একজন ট্যুরিস্টের জেরার মুখে বসতে হবে শুনে সকলেই প্রথমে ভীষণ আপত্তি করেছিলেন। তবে পুলিশের নির্দেশ


 অগ্রাহ্য করে সাধ্য কার ? লেটুশদা শুরু করল।


'মেঘরাজবাবু, আপনার সোম এন্ড ব্রাদার্স-এ তো পাঁচবছর ধরে তালা ঝুলছে। এখন আপনার পৈতৃক ব্যবসাটা কী, একটু বলবেন ?'


'জমানো টাকা, তার সুদ।' বললেন, মানে ঝাঁঝিয়ে উঠলেন মিস্টার সোম। লেটুশদাও দমবার পাত্র নয়।


'বেশ, তার পরিমাণ এতটাই যে প্রতি সপ্তাহে আপনার স্ত্রীকে মন্দিরতলায় তাঁর বাপের বাড়িতে যেতে হতো আপনার শশুরমশায়ের থেকে টাকা ধার করতে। আমি বলছি না, পুলিশের রিপোর্ট বলছে।'


মেঘরাজবাবুর মাথাটা নীচু হয়ে যায়। লেটুশদা বলে চলে।


'পূবালীদেবী যে তাঁর বিবাহিত জীবনে খুব খুশি নন, সেটা তাঁর সাথে প্রথম আলাপেই আমি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আরও নিশ্চিত হই, পরশুদিন ওর মৃতদেহ খুঁটিয়ে দেখার পর।'


'কীরকম?' প্রশ্ন করলেন ইন্সপেক্টর মিশ্র | 


'একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের আধুনিকা স্বামীর সঙ্গে প্রথমবার পুরীতে আসছেন। অথচ তাঁর ভ্রু প্লাক করা নেই। হাতের নখের পালিশও অন্তত দশদিনের পুরোনো। বাঁহাতের কড়ে আঙুল এবং মাঝের আঙুলের পালিশ উঠে গিয়েছিল। হয়তো টাকা সংক্রান্ত বিবাদই এমন জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল তাঁর স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে, যে নিজেকে নিয়ে ভীষণ উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।'


ভ্রু দুটোকে ওপরের দিকে তুলে প্রশংসাসূচক ইঙ্গিত করলেন ইন্সপেক্টর মিশ্র।


লেটুশদা বলে চলে,


'মেঘরাজবাবুকে হুট করে কেন পুরীতে আসতে হল, এই প্রশ্ন প্রথম থেকেই আমার মাথায় এসেছিল। এতই তাড়া, যে একসাথে রিজার্ভেশনও হল না। কিন্তু আসতেই হল। যদিও তখনও সন্দেহ করার মতো কিছু ঘটেনি।'


'আপনি কী বলতে চান, একটু স্পষ্ট করে বলবেন ?' আবার দপ করে উঠলেন মেঘরাজ সোম।


'সেটাইতো চেষ্টা করছি।' লেটুশদার গলা বরফের মতো ঠান্ডা।


'পুলিশের চোরতত্ত্বে আমার প্রথম খোঁচা লাগে যখন কাল মন্দিরের সামনের মহাপ্রভু জুয়েলার্স থেকে নিমাইকে বেরোতে দেখি।'


নিমাই ঘর থেকে পালাতে যাচ্ছিল।' কনস্টেবল দুজন ওকে ধরে ফেলে।


'ওকে তো আপনিই ওখানে পাঠিয়েছিলেন মেঘরাজবাবু, পূবালিদেবীর হারটা বিক্রি করতে ?'


'আপনার কথার প্রমান কী ?'


একেবারে দমে যাননি মিস্টার সোম।


'প্রমাণ তো ওই দোকানে তল্লাশি করলেই পুলিশের হাতে চলে আসবে। কাল সন্ধ্যেবেলা আমি মহাপ্রভু জুয়েলার্সেই যাচ্ছিলাম। তখনই আমার ওপর আক্রমণ করে নিমাই আমার ধারণাটাকেই সত্যি প্রমাণ করল।'


নিমাই নায়েকের চোখ ঘরের মেঝের দিকে।


'আমি নিশ্চিত হলাম এটা কোনও চোরের কাজ নয়। হারটা আসলে মার্ডার ওয়েপন। তাই সেটাকে সরানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।'




(ক্রমশ)


                                                                   

Comments

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...