লেটুশদার
হাতেখড়ি
তৃণাঞ্জয়
ভট্টাচাৰ্য
( পর্ব - চার )
লেটুশদার ষষ্ঠেন্দ্রিয় যাই বলুক না কেন, পূবালিদেবী যে কোনোভাবে খুন হতে পারেন এটা আমি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি।
পুরী মোটেই কোনও ছোটোখাটো গঞ্জগ্রাম নয়| বিশেষত সিবিচের থেকে শুরু করে পুরী মন্দির এবং তাকে কেন্দ্র করে আরও বেশ কয়েকটা জায়গা এই মুহূর্তে প্রায় বিশ্ববিখ্যাতI তারওপরে একেবারে মেরিনড্রাইভ রোডের ওপরে পুলীন পুরী যথেষ্ট অভিজাত একটি হোটেল। সেখানে এরকম একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা| পুরী শহরের নাকের ডগায়| বোঝাই যায় আততায়ী প্রচন্ড ডেসপারেট কেউ। এই ঘটনায় হোটেলের প্রত্যেকটা লোক থেকে শুরু করে আশেপাশের দোকানদাররাও যে প্রায় হকচকিয়ে গেছেন, সেটা বেশ বোঝা যায়। ইতিমধ্যেই হোটেলের লবির পর থেকে দোতলার সিঁড়িটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। একজন ফর্মাল প্যান্ট শার্ট পড়া ভদ্রলোক একটা জার্মান শেপার্ড কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে এইমাত্র দোতলা থেকে রিসেপশনের সামনে এলেন| কুকুরটা প্রায় আট ইঞ্চি জিভ বার করে প্রচন্ড কৌতূহল নিয়ে আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল। লেটুশদা বলল, 'বোধহয় সরকারী গোয়েন্দা বিভাগ কাজ শুরু করে করে দিয়েছে I'
পুলীন পুরী হোটেলের রিসেপশনের সামনেই আলাপ হলো পুরী থানার ওসি পুরুষোত্তম মিশ্রর সাথে। লেটুশদার সনির্বন্ধ অনুরোধেই তিনি আমাদের রুম নাম্বার একশ পাঁচে যেতে অনুমতি দিলেন| সঙ্গে অবশ্য এটাও বললেন, ব্যাপারটা উড়িষ্যা সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে চলে গেছে। তাই তাঁদের খুব বেশি কিছু করার নেই| আর লেটুশদা যখন বলল, ওর নিজের ব্যক্তিগতভাবে রহস্যের জট ছাড়ানোতে ইন্টারেস্ট আছে, তখন মিস্টার মিশ্র এমন একটা ব্যঙ্গের হাসি হাসলেন যেটা দেখতে আমার একদম ভালো লাগলো না।
লাল ফিতের বাধা পেরিয়ে আমরা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে এলাম। আমার যে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছিল এমন নয়| কিন্তু লেটুশদাকে সেটা বলার সাহস হচ্ছিল না। পথে আসতে আসতে অনেক কিছু চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু পূবালীদেবীর মতো কোনও ভদ্রমহিলার ওপর কারোর এমন ভয়ঙ্কর আক্রোশ থাকতে পারে এটা ভাবতেই পারিনি|মাত্র দুই তিন ঘন্টার আলাপেই আমার ওনাকে ভীষণ ভালো লেগেছিল। তাই রিসেপশনের বাইরে যখন ঘটনাটা শুনলাম আমি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পেয়েছিলাম| আজ সন্ধ্যাবেলাতেই আমাদের ওনার গান শুনতে আসার কথা ছিল।
কেষ্টদার দেখলাম উৎসাহের অভাব নেই। দরজাটা খুলতেই বুকটা ধক করে উঠল। ব্যালকনির দিক থেকে হুহু করে হাওয়া ঢুকছে| তাতে পূবালিদেবীর চুলগুলো উড়ছে। অদ্ভুতভাবে রয়েছে বডিটা। মাথাটা বিছানার ওপর এলানো। বাদবাকি শরীরটা মেঝের ওপর| গলায় একটা গভীর কাটা দাগ| মনে হচ্ছে যেন ব্যালকনির দিকে পা ছড়িয়ে বিছানায় মাথাটা রেখে পূবালিদেবী ঘুমাচ্ছেন।
পুরী মোটেই কোনও ছোটোখাটো গঞ্জগ্রাম নয়| বিশেষত সিবিচের থেকে শুরু করে পুরী মন্দির এবং তাকে কেন্দ্র করে আরও বেশ কয়েকটা জায়গা এই মুহূর্তে প্রায় বিশ্ববিখ্যাতI তারওপরে একেবারে মেরিনড্রাইভ রোডের ওপরে পুলীন পুরী যথেষ্ট অভিজাত একটি হোটেল। সেখানে এরকম একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা| পুরী শহরের নাকের ডগায়| বোঝাই যায় আততায়ী প্রচন্ড ডেসপারেট কেউ। এই ঘটনায় হোটেলের প্রত্যেকটা লোক থেকে শুরু করে আশেপাশের দোকানদাররাও যে প্রায় হকচকিয়ে গেছেন, সেটা বেশ বোঝা যায়। ইতিমধ্যেই হোটেলের লবির পর থেকে দোতলার সিঁড়িটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। একজন ফর্মাল প্যান্ট শার্ট পড়া ভদ্রলোক একটা জার্মান শেপার্ড কুকুরকে সঙ্গে নিয়ে এইমাত্র দোতলা থেকে রিসেপশনের সামনে এলেন| কুকুরটা প্রায় আট ইঞ্চি জিভ বার করে প্রচন্ড কৌতূহল নিয়ে আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল। লেটুশদা বলল, 'বোধহয় সরকারী গোয়েন্দা বিভাগ কাজ শুরু করে করে দিয়েছে I'
পুলীন পুরী হোটেলের রিসেপশনের সামনেই আলাপ হলো পুরী থানার ওসি পুরুষোত্তম মিশ্রর সাথে। লেটুশদার সনির্বন্ধ অনুরোধেই তিনি আমাদের রুম নাম্বার একশ পাঁচে যেতে অনুমতি দিলেন| সঙ্গে অবশ্য এটাও বললেন, ব্যাপারটা উড়িষ্যা সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে চলে গেছে। তাই তাঁদের খুব বেশি কিছু করার নেই| আর লেটুশদা যখন বলল, ওর নিজের ব্যক্তিগতভাবে রহস্যের জট ছাড়ানোতে ইন্টারেস্ট আছে, তখন মিস্টার মিশ্র এমন একটা ব্যঙ্গের হাসি হাসলেন যেটা দেখতে আমার একদম ভালো লাগলো না।
লাল ফিতের বাধা পেরিয়ে আমরা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে এলাম। আমার যে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছিল এমন নয়| কিন্তু লেটুশদাকে সেটা বলার সাহস হচ্ছিল না। পথে আসতে আসতে অনেক কিছু চিন্তা করেছিলাম, কিন্তু পূবালীদেবীর মতো কোনও ভদ্রমহিলার ওপর কারোর এমন ভয়ঙ্কর আক্রোশ থাকতে পারে এটা ভাবতেই পারিনি|মাত্র দুই তিন ঘন্টার আলাপেই আমার ওনাকে ভীষণ ভালো লেগেছিল। তাই রিসেপশনের বাইরে যখন ঘটনাটা শুনলাম আমি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পেয়েছিলাম| আজ সন্ধ্যাবেলাতেই আমাদের ওনার গান শুনতে আসার কথা ছিল।
কেষ্টদার দেখলাম উৎসাহের অভাব নেই। দরজাটা খুলতেই বুকটা ধক করে উঠল। ব্যালকনির দিক থেকে হুহু করে হাওয়া ঢুকছে| তাতে পূবালিদেবীর চুলগুলো উড়ছে। অদ্ভুতভাবে রয়েছে বডিটা। মাথাটা বিছানার ওপর এলানো। বাদবাকি শরীরটা মেঝের ওপর| গলায় একটা গভীর কাটা দাগ| মনে হচ্ছে যেন ব্যালকনির দিকে পা ছড়িয়ে বিছানায় মাথাটা রেখে পূবালিদেবী ঘুমাচ্ছেন।
ঘটনাটা হলো উদ্দালক
বাবু, মাধুরীদেবী এবং মেঘরাজবাবু সানরাইজ দেখতে যান পাঁচটার কিছু আগে। পূবালিদেবী যাননি
শরীর খারাপ বলে। ছটার সময় হোটেলের বেয়ারা চা নিয়ে এসে দরজায় ধাক্কা দিতে গিয়ে ভিতরে
একটা ধ্বস্তাধ্বস্তির আওয়াজ শোনে| তৎক্ষণাৎ নীচে গিয়ে ও ম্যানেজার এবং অন্য দুজনকে
ডেকে নিয়ে আসে| তিন চারজন মিলে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখে পূবালিদেবীর দেহটা শোয়ানো|
ব্যালকনির দরজা খোলা। গলার হারটা মিসিং। এটা মনে করা যেতেই পারে কোনও চোর হারটা চুরি
করতেই ঘরে ঢোকে। পূবালিদেবী বাধা দেওয়ার ওই হার দিয়ে ওঁর গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করে সেই
হাড়টা নিয়েই রেইন ওয়াটার পাইপ দিয়ে নীচে নেমে রাস্তার ভিড়ে মিশে যায়| অর্থাৎ পুলিশের
রিপোর্ট মোটামুটি তৈরী।
উদ্দালকবাবু এবং
মেঘরাজবাবু দুজনেই খুব ভেঙে পড়েছেন।মাধুরীদেবীও তাই। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে গিয়েছে।
মেঘরাজবাবু কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। কাঁদতে কাঁদতে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ওনারা
সবাই একশ সাত নম্বরে অর্থাৎ উদ্দালকবাবুদের ঘরে আছেন। হঠাৎ সবাইকে অবাক করে দিয়ে লেটুশদা
বলে উঠলো,
'ওটা কী?'
ওর নির্দেশমতো
পুলিশের কনস্টেবল খাটের তলা থেকে বার করে আনলেন উদ্দালকবাবুর বেল্ট ছেঁড়া ঘড়ি| ঘড়িটা
খাটের নীচে এতো ভিতরে ঢুকে গিয়েছিল যে গোয়েন্দা বিভাগের ওয়েল ট্রেইন্ড কুকুরও সেটা
খুঁজে পায়নি। অথচ মাত্র এক নজর দেখেই... ! আমি লেটুশদার দৃষ্টির প্রশংসা করতে যাবো,
ঠিক সেই সময় কদমকৃষ্ণবাবুর পায়ের নীচে আমি দেখলাম একটা পোড়া সিগারেটের ফিল্টার। ক্লাসিক,
উদ্দালকবাবুর সিগারেট !
সাড়ে আটটায় আমরা
পুলীন পুরী থেকে বেরিয়ে সি বিচের ওপর এলাম। ইন্সপেক্টর মিশ্র মনে হলো লেটুশদার ওপর
খুব ইমপ্রেসড| মোটকথা, নতুন দুটো ক্লু তো আমরাই খুঁজে বার করেছি। তাই একটু আগেই যিনি
ব্যঙ্গের হাসি হাসছিলেন, তিনিই বললেন, গোয়েন্দা বিভাগ যা পারে তাই করুক। লেটুশদা নিজের
ইচ্ছেমতো কেসটা নিয়ে নাড়াঘাটা করতে পারে। ওনার যে শুধু কোনও আপত্তি নেই তাই নয়, উনি
সবরকমভাবে পুলিশি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমার মনে হয় শুধু ছিঁচকে চুরির কেস ঘেঁটে
ঘেঁটে ওনারও অরুচি ধরে গেছে। তাই শখের গোয়েন্দাগিরি ব্যাপারটা নতুন জিনিস হিসেবে উনি
বেশ উপভোগ করছেন। এমনকি উনি এও বললেন, লেটুশদা মিস্টার সোম এবং মিস্টার ও মিসেস বসুর
সঙ্গে কথা বলতে চায় কিনা। যদিও ও বলল,
'না না, এই অবস্থায়
ওঁদেরকে বিরক্ত করার কোনও মানেই হয়নাI'
বিচে এসেই কদমকৃষ্ণবাবু
বললেন,
'এতো জলের মতোন
কেস মশাই।'
লেটুশদা ভীষণ
অন্যমনষ্ক ভাবেই বলল,
'হমম, তবে সমুদ্রের
জলে তো শুধু জলই থাকেনা, আরও অনেককিছু থাকে।'
মাথাটা বনবন করে
ঘুরছে। নতুন পাওয়া ক্লু অনুযায়ী তো উদ্দালকবাবুকেই অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। লেটুশদাকে
কথাটা বলতেই ও বলে উঠলো,
'মোটেই না | দুই
বন্ধুর ঘরে তো একে অন্যের অবাধ যাতায়াত থাকতেই পারে। কি পারে কিনা ?'
'হুমম, তা পারে।' আমি বললাম।
'সেক্ষেত্রে উদ্দালকের
একটা সিগারেটের টুকরো মিস্টার সোমের ঘরে পড়ে থাকাটা কি খুব অস্বাভাবিক ?'
'আর ঘড়ি?' প্রায়
লাফিয়ে উঠলেন কদমকৃষ্ণবাবু।
'চোর', উত্তরটা
যেন তৈরী ছিল লেটুশদা।'উদ্দালক বসুর ঘরের থেকে ঘড়িটা চুরি করার পর রুমনম্বর পাঁচে গিয়ে
মিসেস সোমের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় চোর বাবাজীর পকেট থেকে ঘড়িটা পড়ে যায়।তারপর রুমবয়
এসে দরজায় নক করায় কোনোরকমে হারটা নিয়েই তস্করমশাই চম্পট দেন।'
'বাই রেইনওয়াটার
পাইপ?' মুখটাকে অর্ধেক হা করে প্রশ্ন করলেন কেষ্টদা।
'এগজ্যাক্টলি
! ঘড়িটা খাটের তলাতেই পড়ে থাকে।'
মানে পুলিশের
রিপোর্টের সঙ্গে লেটুশদার রিপোর্ট পুরো এক। ব্যাপারটা আমার ঠিক ভালো লাগলো না| যদিও
আমি জানি, ও মুখে যেটা বলছে, ওর মন তা বলছে না| ও পরপর ঘটনাগুলোকে সাজিয়ে চলেছে| কারণ
বিচে আসার পর থেকেই ওর ভ্রু কুঁচকে রয়েছে| এতবড় পরীক্ষায় শশাঙ্ক সেনকে কোনোদিন পড়তে
হয়নি।
সমুদ্র স্নানের
এমন অভিজ্ঞতা পুরী ছাড়া আর কোথাও হওয়া সম্ভব কিনা, সেটা লেটুশদার জানা থাকলেও আমার
জানা পায়ের নীচ থেকে বালি সরে গিয়ে যেন সমুদ্রের ভিতরে নিয়ে চলে যাচ্ছে ক্রমশ। যদিও
লেটুশদা হাতটা ধরে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেল যেখানে পায়ের তলার বালি অনেক শক্ত। কী
একটা পোকা ভিজে গায়ে মাঝে মাঝেই কামড়ে চলেছে|।লেটুশদা বলল ওগুলো জেলিফিশ। কদমকৃষ্ণবাবু
প্রত্যেকবার ঢেউ আসার সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করতে করতে পাড়ে উঠে যাচ্ছেন। সারাটা গায়ে
বালি ভর্তি। আমরা, মানে আমি আর লেটুশদা যেখানে স্নান করছি সেখানের জল ভীষণ পরিষ্কার।
পায়ের তলা অবধি দেখা যাচ্ছে।লেটুশদা এবার ওঠার জন্য তাড়া দিল। আমার মোটেই উঠতে ইচ্ছে
করছিল না। কিন্তু লেটুশদার কথা অমান্য করা আমার স্বভাবে নেই। যদিও কেষ্টদা আমাদের আগেই
উঠে গিয়েছেন। হাঁটা দিয়েছেন হোটেলের দিকে। উনি আগে চলেছেন, পিছনে আমরা।
বিকেল চারটের
সময় হোটেলের সামনে একটা হলুদ-কালো অটো এসে হাজির। আমরা তিনজনেই তাতে উঠে বসলাম।
'পুরী থানা',
বলল লেটুশদা। থানা থেকে যেটা জানা গেল,পূবালীদেবী এবং মেঘরাজবাবুর বাড়িতে খবর দেওয়া
হয়ে গেছে।পূবালীদেবীর খুড়তুতো ভাই আজই সন্ধ্যেবেলায় ধৌলি এক্সপ্রেসে পুরী আসছেন।মিসেস
সোমের বাপের বাড়ি হাওড়া মন্দিরতলায়। আর সোম পরিবার থাকেন হাজরায়, রানী শঙ্করী লেনে।
মোবাইলে একটা
গান বাজিয়েছে লেটুশদা, "আমি তারেই খুঁজে বেড়াই...", ও এখন অসম্ভব রকম গম্ভীর
হয়ে গেছে। বিবেকানন্দ মূর্তির সামনের এই বিচটায়
আসিনি কোনোদিন।হঠাৎ বিচে দেখলাম, মেঘরাজবাবু। হয়তো একটু হালকা হতে এসেছেন। সেটা কি
আদৌ সম্ভব ?
'ও মশাই !' ফিসফিস
করে প্রায় চিৎকার করে উঠলেন কদমকৃষ্ণবাবু।
লেটুশদাও ভদ্রলোককে
দেখেছে কিন্তু ও একটা কথাও বলল না।
(ক্রমশ)
আগের পর্ব পড়তে
এখানে ক্লিক করুন ঃ

Comments
Post a Comment