Skip to main content

কলতানীয়




(1).....

বৃষ্টি ভেজা বাইপাস | ফাঁকা রাস্তা | দূর থেকে শোনা যাচ্ছিলো royal enfield এর আওয়াজ | মেঘের ক্যানভাসে দেখা গেলো এক যুবতী বাইক আরোহীকে | খোলা চুল , স্টিয়ারিংয়ে দৃঢ় হাত , চোখে মুখে বৃষ্টি ভেজার ভালোলাগা | রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা ভেতো বাঙালিদের just পাত্তা না দিয়ে বাইক চলে গেলো রুবি হাসপাতালের দিকে | একটু বাড়তি বিদ্যুৎ খেলে গেলো বাইপাসে |


(2)


জেতার খিদে সবার থাকে, থাকা স্বাভাবিক ( যদিও জেতার খিদে আর জেতার লোভের মধ্যে একটা গাঢ়, মোটা দাগ থাকা উচিৎ, অনেকের ই গুলিয়ে যাচ্ছে )। ফুটবল কতটা বুঝি,সেটা আয়নার সামনে দাড়ালেই টের পাই। কিন্তু দিনের শেষে তো সেই মধ্যবিত্ত... হারতে,হারতে,ঠোক্কর খেতে,খেতে,কোথাও তো একটা জিততে হবে। সেই খিদেতেই আঁকড়ে ধরি...জার্সি,পোস্টার, সংখ্যাতত্ত্ব। মেসি ব্যালন ডি ওর পেলে...ওটা আসলে আমিই পাই। নেইমার যখন wrong foot দিয়ে বল রিসিভ করে ছবির মতো পাস বাড়ান, মেক্সিকান ডিফেন্স কে অবিকল আমার বসের মুখের মতন দেখতে লাগে।
কিন্তু জীবনে তো জিততে চাইলেই জেতা যায়না। ফলে, এবারের মতো বিদায়। 
ফিরবো আবার। বয়স বেড়ে যাবে, আরো একটু কুঁকড়ে যাব হয়তো, কিন্তু বিশ্বাস করি...জেতার খিদেটা একইরকম থাকবে। ততদিন অব্ধি অন্য কোন মাঠে দেখা হবে।
বি.দ্র. - জেতার খিদের সাথে প্রচারের আলোয় থাকার লোভ কে কেউ গুলিয়ে ফেলবেন না,প্লিজ।


কলতান দাশগুপ্ত


Comments

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...