Skip to main content

মা


 মা শব্দ টা খুব ছোট হলেও তার প্রকৃত অর্থ আজ ও বোধহয় কেউ খুঁজে পায়নি। যার হাত ধরে এই পৃথিবীতে আসা জীবনের আলো  দেখে যার মুখ সবার সামনে থাকে সে হলো মা।  জীবনের প্রত্যেকটা মুহূর্তে থাকে মা। বেড়ে ওঠা প্রথম স্কুল যাওয়ার থেকে শুরু করে বোর্ড এক্সাম-এর চিন্তা , কি হবে, সব কিছু যে আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেয় সে হলো মা।   

মা কে কোনো উধাহরন দিয়ে বোঝানো যায় না, হয় তো সারা পৃথিবীর মা একরখম।  পৃথিবীতে ছেলে মেয়েকে যদি সব থেকে কেউ ভালো বসে সে হলো মা।  মা কে নিয়ে কিছু লিখে, কিছুই বোঝা না। কোথা  থেকে শুরু করা যায় ভাবাই কঠিন কারণ এতো অনুভূতি , এত আবেগ যেটা লিখে হয়তো বোঝানো সম্ভব না....... 
মায়ের কথা  গেলেই মনে পরে সেই ছোটবেলায় স্কুল গিয়ে টিফিন খাওয়ানো, স্কুল চলা কালীন স্কুলের বাইরে দুপুরের রোদে বসে থাকা, কি কি হোমওয়ার্ক পরের দিন করে নিয়ে যেতে হবে সব বুঝে নেওয়া, কারোর সঙ্গে মারপিট হলে নিজের ছেলেকে আগে শাসন করা, টিফিন বন্ধুরা কেউ নিলে বোঝানো সবাইকে ভাগ করে খাওয়া উচিত , আরো কত কি।

সমাজের সঙ্গে এডজাস্টমেন্ট করার প্রথম পদক্ষেপ মা এর কাছ থেকে শেখ. দুপুরে না খেলতে যাওয়া ,সন্ধে হলেই ডাকাডাকি,  আমি কখনো বলছি না যে বাবারা তাদের ছেলে মেয়েদের ভালোবাসে না, হয়তো  তারা সেই সময় টুকু দিতে পারে না, জেট বাচ্চারা চায়।  

আজ মনে পরে স্কুল-এ প্রথম মারপিট করার পর মার্ স্কুল মিটিং যাওয়া। বাইরে ফিরে  মার্। বলতে বাধা নেই  তখন খুব লেগেছিলো।  আজ সেই মার্ এর পেছনে যে ভালোবাসা আছে সেটা  বুঝতে পারি।  আজ যখন বড়  হয়ে গিয়ে সেই মার্ আর পিঠে পরে না তখন যেন মনে হয় কি যেন একটা হারিয়ে গেছে জীবন থেকে।  

জীবন চলে জীবনের মত ,ছোট থেকে বড়  হয়ে আজি আমরা , অনেক নতুন বন্ধু হয়, আমাদের জীবন জীবন দৌড়ে চলে।  এর ফাঁকে কোথায় যেন যার সঙ্গে আমরা কথা বলা কমে যায় সে হলো মা।  কত ঝগড়া , কত অশান্তি সব সময় ভাবা , উফ।  আর পারছি না এদের কে বোঝাতে .....


এই সব কিছুর মধ্যে হঠাৎ যখন মা এর কোনো অসুখ এর জন্য হসপিটালে ভর্তি করতে হয় , হসপিটালের নির্জন ঘরে বসে ভাবতে হয় কি ব্যবহার করেছি এই মানুষটির উপর. ইটা কি তার সত্যি পাওনা ছিল? যে সার্স জীবন নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়ে গেলো , নিজে পুজোর শাড়ি না কিনে আমাদেরটা জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতো তাকে  সত্যি সেই কথার কথা গুলো শোনানো কি দরকার ছিল ?

এক বারো কি মনে পরে নি সারা জীবন আত্মত্যাগ এর কথা? তাই আমাদের উচিত বেশি দেরি না করে যান সেই মায়ের কাছে একবার জড়িয়ে ধরে বলুন যে আপনি কতটা  ভালোবাসেন আজও আর সার জীবন বাসবেন।  দেখবেন জীবনের সমস্ত গ্লানি দূর হয়ে গেছে শুধু তার হাসিটা একবার দেখে।  

যান এখনই যান দেরি না করে ........ 
                                                                           শ্রয়ণ দে 

Comments

  1. মা,এই অনুভূতি, এই আবেগ প্রকাশ করা যায় না, তবে নিরন্তর অনুভব করা যায়। শিশু তো মায়ের সাথে একাত্ম হয়ে থাকে,বিশ্রাম পায়।
    ঠিক কথা, মা-বাবা যাতে ভালো থাকে, আনন্দে থাকে;তা প্রত্যেকেরই বিশেষ সচেষ্ঠ হয়ে উচিত।সন্তানের বিকাশ, আর পেছনে তাদের আত্মত্যাগ ।

    শ্রী রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন,যাঁরা অধ্যাত্যিক জ্ঞান লাভ করেছে, তারা মাতা-পিতা কে সত্য সত্যই ঈশ্বর রূপে দেখে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. dhonyobad ......... aro erokhom lekha asbe....... doya kore amader follow korun....ar oboshyoi amader email id te mail korben......teenswadharan@gmail.com

      Delete
  2. Osadharon Lekha ... Khub bhalo laglo and onek onek r o ei dhoroner lekha chai ...

    ReplyDelete
    Replies
    1. dhonyobad ......... aro erokhom lekha asbe....... doya kore amader follow korun....ar oboshyoi amader email id te mail korben......teenswadharan@gmail.com

      Delete

Post a Comment

Popular posts from this blog

আমার বাবা - আমার ছেলেবেলা

                                            দেখতে দেখতে তেইশটা বছর পেরিয়ে গেল – বাবাকে দেখিনি, গল্প করিনি, বাবার আদরের ছোঁয়া পাইনি…… বাবার কথা বলতে গিয়েই প্রথমে মনে পড়ে তাঁর মিষ্টি হাসিটা। আমার বাবা ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। আমার কখনো মনে পড়েনা যে বাবা আমাকে জোর গলায় কিছু বলেছেন বা বকেছেন। ছোটবেলায় আমি আর আমার বোন সঞ্চারী বাবার কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকতাম – কেন না বাবা ফিরে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে আমাদের ভূতের গল্প শোনাবেন সেই আশায়! কী যে মজার দিন ছিল সেই সব... ছোটবেলায় আমার শখ ছিল পুতুল নিয়ে খেলার, খুব ভালবাসতাম। মনে পড়ে একবার বাবা আর মা বিদেশ থেকে ফেরার  সময় একটা Walkie Talkie Doll (পুতুল) নিয়ে এসেছিলেন। আমি  সেই পুতুলটিকে নিয়ে সারাদিন খেলতাম। একদিন একটি ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে এসেছিল আমাদের বাড়িতে তার বাবামায়ের সাথে আর ওর –ও ঐ পুতুলটিকে খুব ভালো লেগে গেল। আমার নরম মনের বাবা আমাকে বললেন ‘মানা তুমি ওই বাচ্চাটিকে তোমার এই পুতুলটি দিয়ে দাও, আমি তোমাকে আবার...

আমরা তো হেমন্তই হতে চাইতাম

আজও বিকেলে মাঝে মাঝে খুব হেমন্ত শুনতে ইচ্ছে হয়..... "কোনোদিন বলাকারা এতো দূরে যেত কি "...... কিংবা "ওলির কথা শুনে বকুল হাসে ".......আজও মনে পরে "বিষ্ণুপ্রিয়া গো আমি চলে যাই ".......বা "সারাটি দিন ধরে / চেয়ে আছিস ওরে /তোর মনে কথা তবুও কেউ জানলো  না"......আকাশে মেঘ করলেই মনে পরে "মেঘের স্বপন দেখি "......শুধু একজনের জন্য।...... হেমন্ত মুখোপাধ্যায় । কখনো আবার বেশি রাতে আজও  শুনি বিবিধ ভারতীতে.... "তেরি দুনিয়া মে জিনিসে /তো বেহতর হ্যায় / কে মর যায়ে ".....আর সাথে যদি হয় 'ছুঁপালো যুঁ দিল মে প্যার মেরা " ...তাহলে তো কথাই নেই।   বাবাদের ছেলেবেলায় খুব প্রিয় ছিল " শূর্পনখার নাক কাটা যায় / উই কাটে বই চমত্কার / খদ্দের কে জ্যান্ত ধরে / গলা কাটে দোকানদার "........ মা এখনও  শুনতে চায় "ঘুম যায় ওই চাঁদ মেঘ পরীদের সাথে "......জ্যাঠার ঘরে বসে কত দুপুর কেটেছে শুধু "বসে আছি পথ চেয়ে"........ সেই কোন ছেলেবেলা থেকে শুনে আসছি "যদি জানতে চাও তুমি / এব্যাথা আমার কত টুকু / তবে বন্দি করা কোনো পাখির কাছে জেনে ...

একই সুরে কত গান

বিষয়টা খুব একটা নতুন নয়।  যদিও বেশ আকর্ষণীয়।  গান আমরা প্রায় সকলেই শুনি।  এবং এও জানি যে এমন গান আছে যা শুনলে হঠাৎ করে মনে হয় "আরে   এই গানটার  একটা হিন্দি আছে না?" বা " এই গানটার বাংলা টা  যেন কি?"  এবং এই গানগুলির বিষয়ে মানুষের এক-ধরণের স্বভাবজাত আকর্ষণ ও আছে।  তাই ভাবলাম দেখি কিছু লেখা যায় কিনা।  মজার ব্যাপার সব গান নিয়ে লেখা খুব একটা সহজ নয়।  তবুও চেষ্টা করে দেখতে গেলে ক্ষতি কি।     প্রথমেই আসা যাক সলিল চৌধুরীর গান -এ।  তিনিই এই কাজ প্রথম শুরু করেন বলেই মনে হয়।  না ভুল হলো তার আগে শচীন কর্তাও আছেন।  তবে আগে সলিল চৌধুরীকে  নিয়েই হোক।  লতাজিকে দিয়ে তিনি ৩৫টি বাংলা  আধুনিক  গান গাইয়ে  ছিলেন।  যার ২৯ খানারই অন্য ভার্সন আছে।  ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " গানটির  হিন্দি  ছিল ১৯৬১ সালে প্রকাশিত "মায়া" হিন্দি ছবির " যারে যারে উড় যারে পঞ্চী " . "যারে যারে উড়ে যারে পাখি " এর উল্টো দিকে ছিল " না যেও না" যার হিন্দি ছিল ১৯৬০ সালে...